৭ আগস্ট ২০২৬ - ১৩:০৩
নিপীড়করা ইমাম হোসাইনের চিন্তাধারার আলোকে নির্বাপিত করতে অক্ষম।

ইমাম হোসাইন (আ.)-এর অভ্যুত্থান কেবল একটি ঐতিহাসিক ঘটনামাত্র নয়; বরং এটি স্বাধীনতাকামী জাতিসমূহের জন্য দিকনির্দেশনার আলোকবর্তিকা ও অনুপ্রেরণার উৎস, এবং কোনো অত্যাচারী শক্তিই এই আদর্শিক চেতনাকে স্তিমিত করতে পারবে না।

আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): ইমাম আবা আবদিল্লাহ-হুসাইন (আ.)-এর শাহাদাতের চল্লিশ দিন পূর্তি বা ‘আরবাঈন’ উপলক্ষে বাংলাদেশের খুলনা শহরে এক বিশাল শোকানুষ্ঠান আয়োজিত হয়; যেখানে আহলুল বাইত (আ.)-এর হাজার হাজার অনুসারী ও ভক্ত সমবেত হন এবং শোকমিছিল ও  মাতমের মধ্য দিয়ে শোক প্রকাশ করেন।

এই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের ‘কাউন্সিল অফ ইমামি স্কলারস’-এর প্রধান হুজাতুল ইসলাম সাইয়্যেদ ইব্রাহিম খলিল রাজাভি আশুরা আন্দোলনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন যে, কারবালার প্রান্তরে ইমাম হোসাইন (আ.) ও তাঁর বিশ্বস্ত সঙ্গীদের সেই জাগরণ কেবল একটি ঐতিহাসিক ঘটনাই নয়, বরং তা দিকনির্দেশনার আলোকবর্তিকা এবং স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদার এক চিরন্তন প্রতীক।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো দমনমূলক সরকার বা স্বৈরাচারী শক্তিই আশুরার সত্য-সন্ধানী ও মানব-রূপান্তরকারী বার্তাকে স্তব্ধ করতে পারেনি—এবং ভবিষ্যতেও পারবে না।

পরবর্তীতে, বাংলাদেশে আল-মুস্তফা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রতিনিধি হুজাতুল ইসলাম শাহাবুদ্দিন মাশায়েখি মন্তব্য করেন যে, এই সমাবেশের অংশগ্রহণকারীরা কোনো পার্থিব উদ্দেশ্য নিয়ে একত্রিত হননি; বরং ইমাম আবা আবদিল্লাহ আল-হুসাইন (আ.)-এর প্রতি ভালোবাসা ও ভক্তিই তাঁদের এই মহিমান্বিত আয়োজনে একত্রিত করেছে।

তিনি উল্লেখ করেন: আমাদের সকলেরই উচিত ইমাম হোসাইন (আ.)-এর শিক্ষা ও জীবনধারাকে আমাদের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ধারণ করা এবং কখনোই নিপীড়ন, দুর্নীতি বা মিথ্যার কাছে মাথা নত না করা।

বিশিষ্ট সুন্নি আলেম মাওলানা মনজুরুল ইসলাম বলেন: আল্লাহ মানুষকে দুটি শিবিরে বিভক্ত করেছেন—একটি ঐশ্বরিক শিবির এবং অন্যটি শয়তানের শিবির।

যারা মহানবী (সা.) ও আহলে বাইত (আ.)-কে ভালোবাসেন এবং তাঁদের আদর্শের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেন, তাঁরা ঐশ্বরিক শিবিরের অন্তর্ভুক্ত; পক্ষান্তরে যারা ঐশ্বরিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে অত্যাচারী ও ধর্মের শত্রুদের অনুসরণ করেন, তাঁরা শয়তানের শিবিরে অবস্থান করেন।

বক্তৃতাপর্ব শেষে খুলনার রাজপথে এক বিশাল শোক ও মাতম মিছিল বের করা হয়। "আল্লাহু আকবার", "ইয়া রাসূল-আল্লাহ" ও "ইয়া হুসাইন"-এর মতো স্লোগান মুখরিত করে শোকাতুর জনতা 'সাইয়্যেদুশ শুহাদা' বা শহীদদের সরদার (আ.)-এর প্রতি তাদের ভক্তি ও ভালোবাসা নিবেদন করেন এবং পুরো শহরকে হুসাইনি চেতনার আবেগে উদ্ভাসিত করে তোলেন।

Tags

Your Comment

You are replying to: .
captcha